Templates by BIGtheme NET
ব্রেকিং নিউজ
Home / আজকের আলোচিত স্বদেশ ও বিশ্ব সংবাদ ( সুপার ফাইভ) / আবেদের পুত্র ‘মার্কো’ জীবনে বিল্ডিং বানানোর চেয়েও বিয়ে ও পরকীয়া করেছেন বেশী

আবেদের পুত্র ‘মার্কো’ জীবনে বিল্ডিং বানানোর চেয়েও বিয়ে ও পরকীয়া করেছেন বেশী

নীলিমা তন্ময়/জননেতাঃ

16780254_10154689376878891_1389014657_n

হ্যাঁ, পেশায় তিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। বিল্ডিং বা স্থাপনা বানানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। ছিলেন রিহ্যাবের সভাপতিও। নাম মোকাররম হোসেন খান মার্কো। দেশের বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক’ এর কর্ণধার স্যার আবেদ খানের এক ঘরের বা এক পক্ষের স্ত্রীর পুত্র এই মোকাররম। তবে পরিচয়টা স্যার আবেদের রাস্তায় এখন আর  থাকছে না। তিনি নিজেই এক দূষিত জগতের প্রতিনিধি। মোকাররম বা মার্কো মানেই প্রতারণা, ব্যাংক থেকে টাকা নেয়া, অবৈধভাবে সম্পদের মালিক বনে যাওয়া, বিদেশে টাকা পাচার বা মানি লন্ডারিং করা, ধনীর দুলালি খোঁজ করা এবং তাঁদের সাথে প্রেমের অভিনয় করে বিয়ে করা আর একজন স্বীকৃত নারী খেকো চরিত্রহীন থেকে একের পর এক কিশোরী, তরুনী, যুবতী এমন কি জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের মহিলাকে বিছানায় নিয়ে যাওয়া হল তাঁর মজ্জাগত অভ্যাস।  রাজধানী ঢাকাতেই অন্তত এক ডজন নারীর সঙ্গে তাঁর পরিণয়ের সম্পর্ক আছে তা নিয়েও চাউর থাকলেও অনেক নারীর কোলজুড়ে মার্কোর সন্তান আছে- সেটা এখন ওপেন সিক্রেট হয়ে পড়েছে। এক ধরণের রোমান্স আঙ্গিকে যেন সিরিয়াল লেডি কিলার হয়ে পড়েছেন আবেদ পুত্র এই মার্কো। যার বন্ধু মহলে নব্বই দশক হতেই রমণী মোহন পুরুষ হিসাবে অর্থাৎ  ঢাকার ব্যবসায়ী কমিউনিটিতে তাঁর পরিচিতি এভাবেই ছিল- যদিও এই মার্কো চাকুরী করতেন দেশের প্রতিষ্ঠিত বিল্ডারস গ্রুপ কনকর্ডে !

এদিকে ডেভেলপারদের প্লট কিংবা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়ার ২০১৫ আইন নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে বিল্ডারস কোম্পানি গুলো। এই ধারাবাহিকতায় টঙ্গীতে প্রায় এক যুগ আগে বিশ্বমানের বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণকাজ শুরু করে  ক্যাপিটাল্যান্ড ডেভলপমেন্ট (সিডিএল)। ২০০৫ সালে ওই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এই রিয়েল এস্টেট ফার্মের আসল কর্ণধার হলেন  মোকাররম হোসেন খান ওরফে এম এইচ খান মার্কো।65542_10151446657924264_1336364808_n

সূত্র নয়, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে যেয়ে দেখা গেছে,   নির্মানাধীন ছয়তলা ভবনের দুইটি ফ্লোরে প্রায় ছয়শ দোকানের পজেশন বিক্রি করা হয়। ২০০৯ সালের মধ্যেই দোকানের দখল বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু চার বছরের বদলে ১১ বছরেও ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এখনো দোকানের দখল বুঝে পাননি ক্রেতারা। কালক্ষেপণের বৃত্তে ঘুরপাক করা ওই প্রকল্পে দোকান পাওয়া নিয়ে সংশয়ও বাড়ছে। কিন্তু মোকাররম আছেন দিব্যি সুখে। তিনি একেক সময় একেক গাড়িতে চলাফেরা করছেন। মোট ব্যবহৃত গাড়ীর সংখ্যা তাঁর সাতটি- যার মধ্যে দুটি রয়েছে মার্সিডিজ।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, রাজধানীর অদূরে টঙ্গী ওভারব্রিজের পাশে ছয়তলাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক বাণিজ্যিক ভবন গড়ে তুলছে সিডিএল। প্রায় সাড়ে ছয় জমির ওপর গড়ে ওঠা ‘ক্যাপিটা টাইমস স্কয়ার’ নামের ওই প্রকল্পে নিচ ও প্রথম তলায় ৩৫০ থেকে ৫০০ বর্গফুটের প্রায় এক হাজার দোকান থাকছে। যার মধ্যে ২০০৬ সাল থেকে অদ্যবধি প্রায় ছয়শ দোকানের পজেশন বিক্রি করা হয়েছে। শুরুতে সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার হাজারে সীমাবদ্ধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রতি বর্গফুটের দাম পড়েছে গড়ে সাড়ে নয় থেকে ১০ হাজার টাকা। তিন বছর মেয়াদে দোকানের মূল্য পরিশোধের পর ২০০৯ সালের মধ্যেই দখল ক্রেতাদের বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিলো। এরপর থেকে দফায় দফায় সময় বাড়ছে। প্রতিশ্রুত সময়ের ছয় বছরেও ওই ভবনের নির্মান কাজ শেষ হয়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছয়তলা ভবনের পাঁচ তলা পর্যন্ত অবকাঠামো নির্মান শেষ হয়েছে। ৬ষ্ঠ তলার আংশিক ছাদ ঢালাইয়ের কাজও এখনো বাকি। দ্রুতগতিতে কাজ করলেও ওই দুইটি ফ্লোরকে ব্যবসার জন্য উপযোগী করে তুলতে আরো এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে জানিয়েছেন প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সূত্র।

তারপরও আলাপকালে চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যেই বিক্রি করা দোকানের দখল বুঝিয়ে দেয়া হবে- বলে জানিয়েছে সিডিএলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। প্রকল্পের ধরণ বদল, বাড়তি অর্থের জোগান, বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে জটিলতার কারণেই কালক্ষেপণ হচ্ছে- বলেও দাবি করা হয়েছে। আলাপকালে ‘হ’ আদ্যক্ষরের একজন পজেশন ক্রেতা  বলেন, ‘আমরা কয়েকজন মিলে ওই ভবনে পজেশন কিনেছি। সর্বশেষ ২০১০ সালের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে পজেশন বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে শুধু ঘুরছি। দিচ্ছি-দেব করে সময় কাটানো হচ্ছে। এখনো কাজই শেষ হয়নি। বড় ধরনের বিনিয়োগ করে আটকে গেছি। তারা কাজ শেষ হচ্ছে বললেও অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। তারা আন্তরিক হলে অনেক আগেই কাজ শেষ করতে পারতো।’

ভুক্তভোগী ক্রেতাদের দেয়া তথ্যমতে, ছয়-সাত বছর ধরেই প্রায় ছয়শ দোকানের মালিকরা নির্মানাধীন ওই ভবনের দোকানের জন্য সিডিএলের দায়িত্বশীলদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। কাজ শেষ না হওয়ার জন্য বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। কিন্তু বিনিয়োগ করা অর্থ কিংবা দোকানের পজেশনের আশায় কেউ-ই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এর আগে একজন ক্রেতারা পাওনা আদায়ের জন্য মামলা করেছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে জমা দেয়া টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। তবে চলতি বছরের মধ্যে ক্রেতাদের দখল বুঝিয়ে দেয়া নিয়েও সংশয়ে ক্রেতারা।16779889_1279969975401391_1367548035_n

                                                         ছবিঃ ১০ বছরে হস্তান্তর না হওয়া সেই আলোচিত প্রজেক্ট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রেতার মতে, ‘শুধুমাত্র অবকাঠামো গড়লেই ভবনের কাজ শেষ হয় না। এটি অনেক বড় প্রকল্প। প্রত্যেকটি দোকানের বাউন্ডারি, টাইলস ফিটিংস, আভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, বিদ্যুৎ সংযোগ, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও লিফট-এক্সলেটর স্থাপন সময় সাপেক্ষ। এভাবে বহুবার তারা সময় বেঁধে দিয়েছে। যে কারণে তাদের কথার ওপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না।’

সিডিএলের এজিএম একরামুল হাসান বলেন, ‘বড় ধরণের প্রকল্পে সময় লাগবে এটাই  আমরা গ্রাহকদের চলতি বছরের জুনের মধ্যে দোকান বুঝিয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নিচের দুইটি ফ্লোরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। গ্লাস লাগানোর কাজ শুরু হচ্ছে। ভবনের জন্য জেনারেটর ও এক্সেলেটর আমদানি হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা দোকানের পজেশন বুঝিয়ে দিতে পারবো। এ নিয়ে হতাশ হলেও কিছু করার নেই। এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ, বিদেশ থেকে মালামাল আমদানি অনেকগুলো বিষয় আছে। একদিন অফিসে আসেন বসে কথা বলি।’

অন্যদিকে প্রকল্পের কাজ শুরুর পর ডিজাইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। যে কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। আর দায় পড়ছে প্রায় এক দশক ধরে দখল পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের ওপর। কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা ও টাইলস-এক্সেলেটরের জন্য দোকান প্রতি পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা বাড়তি নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্পের জন্য ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণও নেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে সিডিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাররম হোসেন মার্কো’র সঙ্গে সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে ‘সাংবাদিক’ পরিচয় পাওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, ‘আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত। এক মিনিট সময়ও দিতে পারছি না। পরে একদিন সামনা সামনি আসেন কথা বলবো।’ উল্লেখ্য, এই মোকাররম হোসেন দেশের বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের কর্ণধার ও প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের পুত্র। যার বিরুদ্ধে রাজধানীর একাধিক থানা ও আদালতে প্রায় অর্ধশত মামলা রয়েছে।

এদিকে আরেকটি বিশ্বস্ত সূত্র হতে জানা গেছে, এই প্রকল্প থেকেও মোকাররম দেশের তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। ছাদ ঢালাই ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে তিনি এই ঋণ নিলেও দোকান বরাদ্দে ভুমিকা রাখেন নি। প্রায় ১০ বছরের প্রতিটি দিনেই মোকাররমেরা বলছেন, আজ দিচ্ছি- কাল দিচ্ছি  কিন্তু ছোট ঘরানার ব্যবসায়ীরা দোকান আর বুঝে পায় নাই। কথিত আছে, এই মোকাররম প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা দের খুশী করে প্রতারণা করতে পারছেন। কিন্তু সেটা করে আর কতক্ষন !

অন্যদিকে ঠিক সঠিক সময়ে গর্জে ওঠা দুর্নীতি দমন কমিশনেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ নানা পর্যায় হতে গেছে বা যাচ্ছে বলে সূত্র নিশ্চিত করছে। একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, মার্কো মুলত কানাডিয়ান নাগরিকও। বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা তিনি পাচার করেছেন বলে নানা তথ্য আসতে শুরু করেছে। এদিকে মার্কো কে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র করা যায় বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন। কিভাবে তিনি নারী পটিয়ে ধনবান হয়েছেন, প্রেম করেছেন, পরকীয়া করেছেন, সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, দেশ ও বিদেশে স্ত্রী রেখেছেন- সব মিলিয়ে আগামীকাল জননেতার উইকেন্ড স্পেশাল ” আবেদের পুত্র ‘মার্কো’ জীবনে বিল্ডিং বানানোর চেয়েও বিয়ে ও পরকীয়া করেছেন বেশী “- শীর্ষক প্রতিবেদনটি বেলা ২টায় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। ততক্ষন পর্যন্ত জননেতার সাথেই থাকুন…

নী।জ/৭১৭