Templates by BIGtheme NET
ব্রেকিং নিউজ
Home / আজকের আলোচিত স্বদেশ ও বিশ্ব সংবাদ ( সুপার ফাইভ) / লক্ষ জনতার সরাসরি অংশগ্রহণে বিএনপিকে পুনর্গঠন করা হবে

লক্ষ জনতার সরাসরি অংশগ্রহণে বিএনপিকে পুনর্গঠন করা হবে

00জননেতাডটনেটঃ

বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান নাসিম বলেছেন, লক্ষ জনতার অংশগ্রহণে বিএনপিকে পুনর্গঠন করা হবে।

বিএনপি পুনর্গঠনের প্রশ্নে কামরুল হাসান নাসিম ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে যে জাতীয়তাবাদী জনতার নিম্ন আদালত বসিয়েছিলেন সেই নিম্ন আদালতের  এক বছর পূর্তির ঠিক আগের দিন শুক্রবার রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন তিনি।

003নাসিম স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারী দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দল বিএনপির পুনর্গঠন দাবী করেছিলেন। পরবর্তীতে নানা কর্মসূচী (২২টি) পালনের এক পর্যায়ে গেলো বছরের ২৬ নভেম্বর জাতীয়তাবাদী জনতার নিম্ন আদালত বসানো হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। সেখানে বাদী হিসাবে ছিলেন তিনি। বিবাদী হিসাবে বিএনপির পাঁচটি অসুখ। অসুখগুলো হলো, জনস্বার্থ সংরক্ষনের রাজনীতিতে নেই, বিদেশী শক্তির উপর নির্ভরশীলতা, নাশকতাকে রাজনীতির হাতিয়ার করা, জাতীয়তাবাদী থেকে জামায়াতেবাদী হয়ে পড়া ও  দুই শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দলীয় গণতন্ত্রের উপর উদার না থাকা এবং দল পরিচালনায় ব্যর্থ। প্রেসক্লাবের সামনে এই প্রতীকী আদালত বসে। বিবাদীর কাঠগড়ায় ওই পাঁচটি অসুখ প্ল্যা কার্ডে রাখা হয়। বাদীর কাঠগড়ায় তিনি বক্তব্য রাখেন। বিচারক হিসাবে উপস্থিত ছিল জাতীয়তাবাদী জনতা।  বাদী হিসাবে কামরুল হাসান নাসিম বিচারকদের কাছে দুটো রায় চান। । রায় তাঁর পক্ষে পান তিনি। যখন সমস্বরে তাঁর চাওয়াকে ‘হ্যাঁ’ বলে আওয়াজ ধ্বনিত হয়। রায় পান যে দুটো তা হলো- এক, দলের গঠনতন্ত্র স্থগিত করা। দুই, জাতীয়তাবাদী জনতার উচ্চ আদালত দলের নয়া পল্টন কার্যালয়ের সামনেই বসবে।  সেই ধারাবাহিকতায় ‘নাসিম ঠেকাও’ হয়ে পড়ে দলের একাংশের। তখন কামরুল হাসান নাসিম এই কর্মসূচীকে সারা পৃথিবীর মধ্যে অধুনা হিসাবে দাবী করে দলীয় বিপ্লবের ডাক দেন। ফলশ্রুতিতে এই বছরের ২ জানুয়ারী, ১৭ জানুয়ারী, ১৭ মে এবং ৫ সেপ্টেম্বর দলীয় বিপ্লবের মহড়ার অংশ হিসাবে দলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে যেয়ে উচ্চ আদালত এখানেই বসবে জানাতে গেলে দলের অপর অংশের নির্মম, পৈশাচিক আক্রমণের শিকার হন। কিন্তু নেতাকর্মীরা প্রত্যেকবার হামলায় আহত হলেও এই বিপ্লব করবার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কিন্তু বছর পার হয়ে গেলো। নিম্ন আদালতের বয়স এখন এক বছর। নাসিম স্মরণ করিয়ে দেন, তবে কি উচ্চ আদালত বসবে না?

004এই দলীয় বিপ্লব, উচ্চ আদালত ও সমাসাময়িক রাজনীতি নিয়েই মত বিনিময় করে কামরুল হাসান নাসিম বলেছেন, উচ্চ আদালত বসবে। দলের  লক্ষ নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে উচ্চ আদালত বসবে। যে কথিত কাউন্সিল করে এই বছর বিএনপি দায়সারা গোছের দল সাজিয়েছে- এটা পুনর্গঠন নয়। তিনি বলেন, গেলো ২০ বছরের কাউন্সিলরদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি এবং এখনো অনেকে পান নাই। সেই কাজ চলছে, চলছে তৃনমূলে দলের নেতাকর্মীদের অভিলাষ, আকাংখা ও স্বপ্ন নিয়ে বিস্তর আলোচনা। ঠিক সময় মতো নয়া পল্টনের সামনে দলীয় বিপ্লবের কার্যক্রম শুরু হবে। বসে যাবে উচ্চ আদালত। ওই বিপ্লবের আদালত প্রক্রিয়ার সময়ক্ষন হবে ৭ দিন ১৭ ঘন্টার। এরপর দলের ক্রেডিবল পুনর্গঠনে আমার ভুমিকা শেষ হলে আমি আমার নিজস্ব পেশা ও সাংস্কৃতিক ভুবনে মন দিবো বেশী করে। অর্থাৎ নেতৃত্বে আমি আসতে চাই না। আমার কাজ হলো, বিএনপি কে সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী দল করা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে বুদ্ধি বৃত্তিক লড়াইটা আরম্ভ করে দেয়া।

005কবে নাগাদ এই উচ্চ আদালত বসবে এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিপ্লব’ দিনক্ষন সময় দিয়ে হয় না। আমি শুধু বলবো, দলীয় বিপ্লবের জন্য উৎসর্গকৃত ৯টি স্বরচিত কবিতা ও আবৃত্তিতে আমি সব কার্যত বলে দিয়েছি। সারাদেশের মানুষ কম বেশী তা শুনেছে, শুনছে। আপনারাও শুনুন।

বিএনপির সমসাময়িক রাজনীতি প্রসঙ্গে কামরুল হাসান নাসিম বলেন, বিএনপি তাঁর ৫টি অসুখের মধ্যেই আছে। ক্ষমতার রাজনীতি, বিদেশী শক্তির উপর নির্ভরশীলতা ও জামায়াতেবাদী হয়ে থাকা- এই তিনটি রোগ বেশী জেঁকে বসেছে। আসন্ন শীতে শৈত্য প্রবাহের মতো এখানেও অসুখের তীব্রতা বাড়তে থাকবে। রামপাল ইস্যুতে এদের দুর্বল আনু মোহাম্মদের মতো সংগঠকদের কাছে ধর্না দিতে হয় ! নাসিরনগর নিয়ে চুপ, আমাদের মা এখনো স্টার জলসা, স্টার চ্যানেল দেখে সময় কাটাচ্ছেন ! অথচ, কাউকে কিছু না বলে নির্বাচন কমিশন নিয়ে মেতে উঠলেন ! আমিতো আগেই বলেছি, অগ্রিম হোক আর ২০১৯ সাল হোক এরা ৬০/৭০ টি আসন নিয়ে বিরোধী দল হতে চায়। অথচ বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়( সেবা) আসার মতো একটি দল। অর্থাৎ ক্ষমতায় যাবার জন্য বাঁকা পথ ( বিদেশী শক্তির আশীর্বাদে) আর সোজা রাস্তায় বিরোধী দল হওয়ার রাজনীতি করছেন। অথচ দেশের মৌলিক কিংবা যৌগিক নানা ইস্যুতে জনস্বার্থ সংরক্ষনের রাজনীতিটা করা যেতে পারলে মার্চ ফর ডেমোক্রেসি হাতের নাগালে চলে আসে। অর্থাৎ তেমন আন্দোলন করা সম্ভব হবে। কিন্তু তা তো নেই। আমাদের মা কেন মানুষের জন্য রাস্তায় নামেন না? কেন তারেক রহমান লন্ডন হতে এসে কারাগারে যাবার জন্য প্রস্তুত হয় না? তাঁরা পারেন ছেলেদের হাতে পেট্রোল বোমা হাতে দিয়ে ব্যবহার করতে, মানুষ খুনের রাজনীতি করতে। নির্বাচন কমিশন ইস্যুতে যে প্রস্তাব রাখা হলো সেখানে কি জামায়াতকে বর্জন করতে পেরেছেন? পারেন নাই। বিএনপি পুনর্গঠনের পর আমি একটি ক্রেডিবল জোটও করার ভুমিকায় থাকবো। ২০ দলের মধ্যে তখন হয়তো ৬ কি ৭ টা দল থাকবে- যাদের দারুণ একটা ভিত্তি আছে।

007
আসলে এসব কথা বলার খুব সুযোগও নেই আমার। এসব অসুখ আছে বলেই তো আমার মতো সাধারণের মাথা ঘামানো। বিএনপি পুনর্গঠন ! আমাকে প্রায়ই বিভিন্ন ফোরাম হতে ডাকা হয়। বলা হয়, এই আন্দোলন করেন তো ওই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। আমি তা করিনি। কারণ, আমার লক্ষ্য হলো আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কে সঠিক পথে নেয়া। দলের নামকরনের সার্থকতা খুঁজতে গেলে তা করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। আমি শুধু একটা বিপ্লব নয়, বেঁচে থাকলে কয়েক বছর পর আরো দুটো রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনাও করতে চাই।

000
বিএনপির জন্য ভাবে পুরোদস্তুর রাজনীতিক নয়- এমন গুনীজনেরাও আছেন। আমি তাঁদেরকে বলবো, দলের অভ্যন্তরে থাকা সরকার দল, বিদেশী শক্তির এজেন্ট আর দুর্বল ও মানহীন মা ও পুত্রের উপর ভরসা রাখার সুযোগ নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুরণিত থেকে আপনাদের উন্নত চিন্তাকে আনুষ্ঠানিক মোড় দেন। বিএনপি কে ধ্বংস করার পায়তারা করা হচ্ছে দল হতেই। আমরা থাকতে তা করতে দেয়া হবে না। আমি ঝুঁকি নিতে পছন্দ করি। নিয়েছি। কার ভাল লাগলো বা লাগলো না- সেটা আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় না। আমি মনে করি, আজ যদি একজন মানুষও আমার চিন্তাকে শ্রদ্ধা করার জায়গায় না থাকে- সামনেই দিন আসছে। তাঁরা বিচার কিরবে তখন। আমি আগভাগেই দেখি খানিকটা। আমাদের নতুন ‘জিয়া’ লাগবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে দলের মধ্য থেকে সেই জিয়া আসুক।  কাজেই কে আসল বা নকল বলুক সেটা মুখ্য নয়, আমি কি করতে পারছি দলের জন্য সেটাই রাজনৈতিক  ঐতিহাসিকতায় আজ ‘সমালোচিত’ কাল ‘আলোচিত’ হবে বলে বিশ্বাস করি।

আএ/ জ/ ০০১